January 2024 - Radha Krishna Priam

Download Free Android Apps

Ads 728x90

Powered by Blogger.

Search This Blog

সিদ্ধার্থে চরিএ দেখে মুগ্ধ হলেন দেবদত্ত,Devadatta was impressed by Siddhartha Chari.

 

 সিদ্ধার্থে চরিএ দেখে মুগ্ধ হলেন দেবদত্ত

সিদ্ধার্থে চরিএ দেখে মুগ্ধ হলেন দেবদত্ত,Devadatta was impressed by Siddhartha Chari.
সিদ্ধার্থ যেখানে বসে হাঁসটির শুশ্রুষা করছিলেন, সেখানে দৌড়ে এসে উপস্থিত হলে দেবদত্ত।এই দেবদত্ত ছিলেন সিদ্ধার্থের খেলার সাথী। দেবদত্ত এসে বললেন, - এই যে সিদ্ধার্থ, হাসটি দেখছি তোমার কাছে। আমিই হাঁসটিকে তীরবিদ্ধ করেছি। শিকার শিকারীরই প্রাপ্য । তাই হাঁসটি আমার । আমার হাঁস আমাকে দিয়ে। দাও। উত্তরে সিদ্ধার্থ বললেন, দেবদত্ত, হাঁসটি তােমাকে আমি দেব কেন, আমার হাঁস, আমাকে লেবেলা কেন? তুমি হাঁসটিকে তীরবিদ্ধ করে অন্যায় করেছ দেবদও। তােমাকে আঘাত করলে যেমন তুমি। কষ্ট পাও, তেমনি তােমার আঘাতে অন্য ঐীবও কষ্ট পায় । হাঁসটি তােমার তীরে আহত হয়ে। কি কষ্ট পাচ্ছে, দেখ । এখন আমাদের কর্তব্য হচ্ছে, ওর শুশ্রুষা করে ওর কষ্ট দূর করার চেষ্টা করা

দেবদত্ত রেগে গেলেন। বললেন। সিদ্ধার্থ, ওসব কথা শুনতে আমি আসি নি। শিকার করেছি, শিকার খুঁজে পেয়েছি। আমার শিকার আমি নিয়ে যাব, ব্যাস।' শান্ত, ধীর ও গভীর কণ্ঠে সিদ্ধার্থ বললেনরাগ করাে না, দেবদত্ত। নিজের কস্টের কথা ভেবে অন্যের কষ্ট বােঝার চেষ্টা কর। এ হাঁসটিরও প্রাণ আছে। সুখ-দুঃখের অনুভূতি আছে। তুমি যেমন তোমার জীবনকে ভালবাস,হাঁস তার জীবনকে অনেক ভালোবাসে।  তাদের ধ্বংস না করে জীবন বাঁচানো আমাদের কর্তব্য।  দেবদত্ত একটু নরম হয়ে গেল।  সিদ্ধার্থ বলতে লাগল।

  

সিদ্ধার্থে চরিএ দেখে মুগ্ধ হলেন দেবদত্ত

তোমার হাতে হাঁস নিয়ে তাকে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিতে পারব না।  তার বদলে তুমি যা চাইবে তাই দেব।  আমাকে বলো কি চাও?আহত হাঁসটির জীবনের জন্য সিদ্ধার্থের মমতা দেখে মুগ্ধ হলেন দেবদত্ত। সিদ্ধার্থের জীবসেবার আদর্শ তাঁর হৃদয়কেও স্পর্শ করল সিদ্ধার্থে  হাঁসটিকে সুস্থ করে আকাশে উড়িয়ে দিলেন। আর দেবদত্ত সিদ্ধার্থের প্রশান্ত মুখের দিকে বিমুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন।

সরস্বতী পূজা, সরস্বতী দেবী কে, সরস্বতী দেবীর আর্বিভাব। Maa Saraswati.

 বিদ্যার দেবী মা সরস্বতী

সরস্বতী পূজা, সরস্বতী দেবী কে, সরস্বতী দেবীর আর্বিভাব।


সরস্বতী পূজা, সরস্বতী দেবী কে, সরস্বতী দেবীর আর্বিভাব।

সরস্বতী শব্দটি ‘সার’ এবং ‘স্ব’ দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। সেই অনুসারে সরস্বতী শব্দের অর্থ যিনি কারো মধ্যে সারজ্ঞান প্রকাশ করেন। আবার সরস্বতী শব্দটি সংস্কৃত ‘সুরস বতি’ শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ হচ্ছে জলের আধার। সরস্বতী সাক্ষাৎ দেবী মূর্তি এবং নদী-দুইরূপেই প্রকটিত। ঋগবেদে(২/৪১/১৬) বর্ণনা করা হয়েছে- 

অম্বিতমে নদীতমে সরস্বতী। 

অপ্রশস্তা ইব স্মসি প্রশস্তিমন্ব নস্কৃধি।।

অর্থাৎ “মাতৃগণের মধ্যে শ্রেষ্ট, নদীগণের মধ্যে শ্রেষ্ট, দেবীগণের মধ্যে শ্রেষ্ট হে সরস্বতী, আমরা অসমৃদ্ধের ন্যায় রয়েছি, আমাদের সমৃদ্ধশালী করো।” সরস্বতী দেবী জ্ঞান, সঙ্গীত, কলা এবং বিদ্যার দেবী। 


সরস্বতী দেবীর আবির্ভাব

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুযায়ী গোলোকে শ্রীকৃষ্ণের কন্ঠদেশ থেকে দেবী সরস্বতী উদ্ভূতা হয়েছিলেন। চৈতন্য ভাগবত (আদিলীলা ২/৯-১৪) তে বর্ণনা করা হয়েছে- 

পূর্বে ব্রহ্মা জন্মিলেন নাভিপদ্ধ হৈতে। 

তথাপিও শক্তি নাই কিছুই দেখিতে।। 

তবে যবে সর্ববারে লইলা শরণ, 

তবে প্রভু কৃপায় দিলেন দরশন। 

তবে কৃষ্ণ কৃপায় স্ফুরিত সরস্বতী। 

তবে সে জানিলা সর্ব অবতার স্থিতি।। 

এক সময় শ্রীব্রহ্মা সৃষ্টিকার্যের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। শান্তভাবে ধ্যানস্থ আছেন। কী করবেন, কী করা উচিত চিন্তা করছেন। এমন সময় তাঁর শরীর থেকে এক সুন্দরী দেবীমূর্তি প্রকাশিত হয়। দেবী ব্রহ্মাজীকে বললেন, হে বিধাতা আমি আপনার থেকে প্রকাশিত হলাম। এখন দয়া করে আপনি আমার স্থান এবং কী কর্ম তা নির্দেশ করুন। ‘ব্রহ্মা বললেন “তোমার নাম সরস্বতী। তুমি অবস্থান করো সকলের জিহ্বাতে বিশেষভাবে সুশিক্ষিত ব্যক্তিদের জিহ্বাতে তুমি নৃত্য করো।পৃথিবীতে তুমি একটি নদীরূপে প্রকাশিত হও।”

দেবী সরস্বতী প্রশ্ন করলেন- হে বিধাতা, আপনি বললেন, আমি সবার জিহ্বাতে অবস্থান করবো; আবার বললেন, নদীরূপে থাকবো। এর ব্যাখ্যা কী? ব্রহ্মা বললেন-সরস্বতী তুমি যখন লোকের জিহ্বাতে অবস্থান করবে, তথন লোকের জিহ্বা থেকে বাকশক্তি হবে। তাই তোমার নাম বাকদেবী। তুমি আমার মুখ থেকেই প্রকাশিত। তুমি পবিত্রবতী। জগৎ-সংসারে বহু অপবিত্র মানসিকতা সম্পন্ন জীব থাকবে, অপবিত্র মানুষের জিহ্বায় কদর্য বাক্য স্ফুরিত হবে, সেসব জিহ্বাতে তুমি অবস্থান করে সুখি হতে পারবে না। 

হে সরস্বতী, তুমি সাক্ষাৎ বুদ্ধি স্বরূপিণী। তুমি বলো, কোথায় তুমি আনন্দ লাভ করবে? সরস্বতী বললেন-যে সমস্ত ব্যক্তি পরম সুন্দর পরমেশ্বর ভগবানের আরাধনা করেন, তাদের জিহ্বায় সর্বদা পরম প্রভুর নাম কীর্তিত হবে। আমি তাঁদের পবিত্র জিহ্বায় অধিষ্ঠান করবো। 

ব্রহ্মাজী ব্রহ্মসংহিতায় বর্ণনা করেছেন-সেই পরম সুন্দর ভগবান কে? তিনি বর্ণনা করেছেন, “সেই পরমেশ্বর ভগবান হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণ। তাঁর রূপ সচ্চিদানন্দ। তিনি অনাদির আদি এবং সর্বকারণের পরম কারণ। সেই আদি এবং সর্বকারণের পরম কারণ। সেই আদি পুরুষ গোবিন্দকে আমি ভজনা করি।” কলিসন্তরণ উপনিষদে বর্ণনা করা হয়েছে- 

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে। 

হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।

ইত ষোড়শকং নাম্নাং কলিকল্মাষ নাশনম্। 

নাতো পরতর উপায় সর্ববেদেষু দৃশ্যতে।। 

শ্রীমদ্ভাগবতে (১১/৫/৩২) বর্ণনা করা হয়েছে- 

কৃষ্ণবর্ণ তিষাকৃষ্রং সাঙ্গোপাঙ্গোঅস্ত্রপার্ষদম্। 

যজ্ঞৈঃ সঙ্কীর্তনপ্রায়ৈর্যজন্ত হি সুমেধসঃ।।

সরস্বতী পূজা, সরস্বতী দেবী কে, সরস্বতী দেবীর আর্বিভাব।


পুরাণে সরস্বতী 

বেদের যজ্ঞধাত্রী সরস্বতী পুরাণে ধরা দিয়েছেন বিচিত্র লীলাময়ী রূপে। অনেকগুলো পুরাণেই আমরা সরস্বতীর সাক্ষাৎ পাই। কিন্তু বৈদিককালের সরস্বতী মৌলিক ভাবনিচয় পুরাণের বর্ণনায় কোথাও ক্ষুণ্ণ হয়নি বরং হয়েছে অধিকতর সুপ্রকাশিত। দেবী ভাগবতে (৯/৭) বলেন, দেবী সরস্বতী আদ্যা প্রকৃতির অধিষ্ঠাত্রী দেবতা। তিনি বোধস্বরূপিণী, সমুদয় সংশয়ছেদনকারিণী এবং সর্বসিদ্ধি প্রদায়িণী। সঙ্গীতের সন্ধান ও তাল প্রভৃতির কারণ স্বরূপিণীও তিনিই। 

দেবী সরস্বতীর উপদেশ 

মহর্ষি কশ্যপের এক বংশের ছিলেন তার্ক্ষ্য। সেই তার্ক্ষ্য ঋষি একদিন তপস্যাকালে দেবী সরস্বতীর সাক্ষাৎ পেলেন। শ্বেতবসনা, বীণাধারিণী, দুগ্ধবর্ণা দেবী সরস্বতী। ঋষি তাঁকে প্রণতি নিবেদন করলেন। 

দেবী বললেন, হে বৎস, তোমার মনে অনেক প্রশ্ন আছে বলে জানি। তুমি যদি এখন কিছু জানতে চাও, তবে বলো। তার্ক্ষ্য ঋষি জানালেন হে ভদ্রে, দয়া করে বলুন ইহলোকে মানুষের কল্যাণ কীভাবে হবে? দেবী সরস্বতী বললেন, হে তপবোন, যে ব্যক্তির হৃদয় শুদ্ধ, শাস্ত্র নির্দেশ যে যত্ন সহকারে পালন করে, তারই যথার্থ কল্যাণ হয়। কী কর্ম করলে মানুষ এ জীবনের পর উর্ধ্বগতি বা নিম্নগতি লাভ করে? যদি কোনো ব্যক্তি অন্য সাত্ত্বিক ব্যক্তিকে ধন দান, আশ্রয় দান, চিকিৎসা দান, অন্ন দান, বস্ত্র প্রভৃতি দান করে তবে সুখময় স্বর্গীয় গ্রহলোকে উপনীত হবে। যে ব্যক্তি কাম ও ক্রোধ দ্বারা নিরন্তর মোহাচ্ছন্ন থাকে, সে ঘোরতর নরকলোকে নিপতিত হবে।

হে দেবী, কারা বৈকুণ্ঠ বা গোলোক ধামে উপনীত হতে পারবে? যাঁরা যজ্ঞাবশেষ ভোজী অর্থাৎ শ্রীহরির মহাপ্রসাদ যাঁরা ভোজন করেন, যাঁরা সত্যব্রত অর্থাৎ ভগবৎ-ভক্তি অনুশীলন করেন, যাঁরা শ্রদ্ধাবান অর্থাৎ ভগবান ও ভক্তের নির্দেশ মেনে চলতে আগ্রহান্বিত, যাঁরা নিরহংকার অর্থাৎ ভগবৎ সম্বন্ধ ছাড়া অন্য কারো সম্বন্ধে আকৃষ্ট নন, তাঁরাই শ্রীহরির সেবা করার উপযুক্ত হন। পরিণামে তাঁরা অতি পবিত্র ধাম গোলোক লাভ করেন এবং পরম সত্য স্বরূপ শ্রীকৃ্ষ্ণকে তাঁরা নিরীক্ষণ করে থাকেন। 

ঋষি তার্ক্ষ্য আবার স্বরসতী দেবীকে প্রশ্ন করলেন, হে পরমাত্মারূপা প্রজ্ঞা, আপনি কে? দেবী সরস্বতী বললেন, আমি পরাপর বিদ্যারূপা দেবী। অর্থাৎ পরা বিদ্যা হচ্ছে ভগবান ও ভক্তি সম্বন্ধীয় বিদ্যা এবং অপরা বিদ্যা হচ্ছে জড়জগতের কর্মকান্ডীয় বিদ্যা। এ উভয় বিদ্যাই আমি জিবকে প্রদান করি

জয়জয় দেবী চরাচর সারে

কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে

বীনারঞ্জিত পুস্তক হস্তে

ভগবতী ভারতী দেবী নমহস্তুতে।।

সরস্বতীর স্তব মন্ত্র : 

শ্বেতপদ্মাসনা দেবী শ্বেত পুষ্পোপশোভিতা

তিনি সর্বদা সাদা পোশাক পরে থাকেন এবং সাদা সুগন্ধি দিয়ে অভিষিক্ত হন

শ্বেতাক্ষসূত্রহস্তা চ শ্বেতচন্দনচর্চ্চিতা। 

শ্বেতবীণাধরা শুভ্রা শ্বেতালঙ্কারব‌ভূষিতা। 

তারা সিদ্ধ ও গন্ধর্বদের দ্বারা পূজা করা হয়

পূঝিতা মুনিভি: সর্ব্বৈঋষিভিঃ স্তূয়তে সদা

স্তোত্রেণানেন তাং দেবীং জগদ্ধাত্রীং সরস্বতীম্। 

যে স্মরতি ত্রিসন্ধ্যায়ং সর্ব্বাং বিদ্যাং লভন্তি তে।।

সরস্বতী দেবী বন্দনা :

গায়কঃ সায়ানী পালিত

সুরকার ও গীতিকার: ঐতিহ্যবাহী

জয় জয় দেবী, জয় জগজননী

জয় জয় সরস্বতী, মাই

জয় জয় দেবী, জয় জগজননী

জয় জয় সরস্বতী।

 

জয় জয় ভবানী, জয় শর্বাণী

জয় ত্রিভুবন, সুখদায়ী

জয় জয় ভবানী, জয় শর্বাণী

জয় ত্রিভুবন, সুখদায়ী

তেরি মায়া অনন্ত অপার, 

যা কো, কো নেহি পায়ি 

জয় জয় দেবী, জয় জগজননী

জয় জয় সরস্বতী।

হস্তকমল মো বীণ বাজাভে, 

যা মে সব, সুর গাই

দুজে হাত বিরাজত পুস্তক

বেদ শ্রুতি উপজায়ী

জয় জয় দেবী, জয় জগজননী

জয় জয় সরস্বতী।

তেরি রূপ, ভয়ো সব বিদ্যা 

সুর-নর চরণ নমাই,

পদ্মনাভ প্রভু, চরণ শরোরুহ

সেবক কে মন ভায়ী।

জয় জয় দেবী, জয় জগজননী

জয় জয় সরস্বতী, 

জয় জয় সরস্বতী, 

জয় জয় সরস্বতী।


https://radhakrishnapriam.blogspot.com/2024/01/godliness.html
ঈশ্বরতও্ব,godliness

 

      ঈশ্বরতও্ব

ঈশ্বরতও্ব,godliness

ঈশ্বরতও্ব

ঈশ্বর সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা এবং সর্বশক্তিমান।  তার জন্ম নেই, মৃত্যু নেই।  সবই তার অধীনে

কিন্তু তিনি কোন কিছুরই অধীন নন। ঈশুনলে ঋষিগণ নানাভাবে উপলদ্ধি করায় চেষ্টা করেছেন।

কেউ ভাবেন হয় তো তিনি ই, কেউ ভাবেন অগ্নি, কেউবা ভাবেন তিনি বরুণ প্রভৃতি

দেবতাদের একজন। ঋষিগণ ধান মগ্ন হয়ে উপলদ্ধি কললেন, তিনি বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা। কিন্তু তার

নাম কি ? তিনি কোথায় থাকেন ?

 একজন ঋষি বুঝলেন, তিনি এই পৃথিবীতে আছেন।

তিনি জোর্তিময় ও মহান। তিনি ব্রহ্ম।


ঈশ্বরতও্ব

ঈশ্বরতও্ব

 ব্রক্ষা


ব্ৰহ্ম কথাটির অর্থ সর্ববৃহৎ। তিনি নিত্য শুদ্ধ, মুক্ত, সর্বজ্ঞ, হ্ম্যোতির্ময়, নিরাকার, সর্বব্যাপী ও সর্বশক্তিমান। তিনি জগত সৃষ্টি কল্লেন, পালন করেন। আবার তিনিই বিনাশ করেন।

কেউ কেউ প্রশ্ন করলেন, - ''ব্রহ্ম যদি সৰ্ববাণী হন তবে তিনি তাে সবার মধ্যেই আছেন,

তবে তাকে দেখতে পাই না কেন ? তখন ঋষিগণ উপলদ্ধি বলেন, ব্রহ্ম জীবের মধ্যে আছে আত্মরুপ।

আত্মা 

আত্মা নিত্য বস্তু। আত্মার জন্ম বা বিনাশ নেই। আত্মাকে স্পর্শ করা যায় না, দক্ষ

করা যায় না। কোনরূপে আত্রা নষ্ট হয় না। আত্রা নিরাকার, আত্মাকে দেখা যায় না, উপলদ্ধি করতে হয় ।


ঈশ্বর

অনা একদল ব্রহ্মজ্ঞানী ভাবলেন, ব্রহ্ম বা আত্মাকে কি দেখা যাবে না? ধ্যান করতে করতে

ঋষিরা একবার বুঝতে পারলেন যে ব্রহ্মাই ঈশ্বর।  যিনি সবার উপর আধিপত্য বিস্তার করেন।  সৃষ্টিকর্তা একে পরমেশও বলা হয়।


ভগবান

ভগবান



ভগবান

আবার সমস্ত ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্যকে ঈশ্বরের নিয়ন্ত্রণে বলা হয়েছে।

ঈশ্বরকে ভগবানও বলা হয়।

এভাবে ঋষিগণ এক ঈশ্বরকে ব্রহ্ম, আত্মা ও ভগবান এ তিনভাবে উপলদ্ধি করেন।

“একোহম” এই কথাটি ঈশ্বরের বাণী। শাস্ত্রে এক ও অদ্বিতীয় ঈশ্বরের কথাই বলা হয়েছে।


ঈশ্বর বা ভগবানের স্বরূপ 

ঈশ্বরের সাকার রূপকে ভগবান বলা হয়। ভগবান রসময় ও আনন্দময়। তিনি সর্বত্রই

বিদ্যমান।  তিনি সর্বশক্তিমান।  তার রূপের শেষ নেই।  সেই রূপে ভগবানের ভক্ত

ডাকেন, তিনি ভক্তদের কাছে সেই রূপে উপস্থিত হন এবং অভিনয় করেন।

তাই তাে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন –

‘সীমার মাঝে অসীম তুমি বাজাও আপন সুর।”

ঈশ্বর সারা বিশ্বে আছেন।  ভক্তদের ডাকে সাড়া দেন তিনি।  ভক্তদের কাছে ঈশ্বর

জগৎ দুই-ই সত্য।

শ্রীমদ্ভগবদগীতার  মাহাত্ম্য, The greatness of Srimad Bhagavad Gita,

 

      শ্রীমদ্ভগবদগীতার  মাহাত্ম্য  
     

শ্রীমদ্ভগবদগীতার  মাহাত্ম্য,The greatness of Srimad Bhagavad Gita,


৷৷৷ শ্রীমদ্ভগবদগীতা ৷৷৷ 


মহাভারতশ্রীমদ্ভগবদগীতা হিন্দু ধর্মের একটি প্রধান ধর্মগ্রন্থ ।  থেকে আমরা জানি, পুরাকালে কুরুক্ষেত্রে কুরু-পাণ্ডবদের মধ্যে এক ভীষণ যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে সেকালের অনেক রাজা অংশ নেন। কেউ পাণ্ডব পক্ষে, কেউ কৌরব পক্ষে । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যুধিষ্ঠির, ভীম ও অনাদি পাণ্ডব পক্ষে রথের সারথি হয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। আর তাঁর সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশ (দশ অক্ষৌহিনী সৈন্য) দুর্যোধনাদি কৌরব পক্ষে অংশ নিয়েছিল। যুদ্ধ যখন শুরু হবে, তখন আপনজনদের দেখে অর্জুন খুব বিষন্ন হলেন। কাকে আঘাত করবেন? সবাই যে আপনজন! কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অংশগ্রহণ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের একটি লীলা। তিনি তাঁর প্রিয় সখা অর্জুনকে যেসব উপদেশ দিয়েছিলেন তাই শ্রীমদ্ভগবদগীতা, সংক্ষেপে গীতা। মহাভারতের ভীষ্ম পর্বের পঁচিশ অধ্যায় হতে বিয়াল্লিশ অধ্যায় পর্যন্ত আঠারটি অধ্যায়ই গীতা। মহাভারতের অংশ হয়েও গীতা একটি পৃথক ধর্মগ্রন্থের মর্যাদা পেয়েছে এবং হিন্দুদের ঘরে ঘরে পঠিত হচ্ছে। এ গ্রন্থে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীমুখনিঃসৃত ৫৭৫ টি শ্লোক, অর্জুনের ৮৪টি, সঞ্জয়ের ৪০ টি এবং ধৃতরাষ্ট্রের মাত্র ১টি শ্লোকসহ মােট ৭০০ টি কে আছে। এই জন্য একে সপ্তশতীও বলা হয় ।

শ্রীমদ্ভগবদগীতার  মাহাত্ম্য

আঠারটি অধ্যায়ের প্রতিটির নামকরণ করা হয়েছে। যথা: 

  • বিষাদ যােগ, 
  • সাংখ্য যােগ, 
  • কর্ম যােগ, 
  • জ্ঞান যােগ, 
  • ধ্যানযােগ, 
  • জ্ঞান-বিজ্ঞান যােগ, 
  • অক্ষরব্রহ্ম যােগ,
  •  রাজযােগ,
  • সন্ন্যাস যােগ,
  •   বিভূতি যােগ, 
  • বিশ্বরূপ দর্শন যোগ,
  •  ভক্তি যোগ,
  •  ক্ষেত্র ক্ষেত্রজ্ঞ যোগ, 
  • পুরুষােত্তম যােগ,
  •  দেবাসুর সম্পদ বিভাগ যােগ, 
  • শ্রদ্ধাত্রয় বিভাগ যােগ, 
  • মােক্ষ যােগ।

 এর মধ্যে পণ্ডিতগণ যে তিনটি অধ্যায়ের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সে অধ্যায় তিনটি হল :

  1.  কর্মযােগ, 
  2. জ্ঞানযােগ 
  3.  ভক্তিযােগ ।

 কর্মযােগে ভগবান  অর্জুনকে বিশেষভাবে বলেছেন, “কর্মই' ধর্ম। তুমি ক্ষত্রিয়, যুদ্ধ করাই তােমার ধর্ম। আসক্তিহীনভাবে যুদ্ধ কর তাহলে তার একটি সুফল অবশ্যই পাবে। তাই ভগবান। বলেছেন, “কর্ম তব অধিকার কর্মফলে নয়, ফল আশা ত্যাগ কর, কর্ম যেন রয় । (২য় অধ্যায়, ৪৭ নং শ্লোক) তাই শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছেন, “এখন যুদ্ধের মাঠে যুদ্ধ করাই তােমার কর্ম। তুমি যুদ্ধ ত্যাগ করে যে-সব মত কথা বলছ তাতে তােমার ধর্ম নষ্ট হবে । স্ব স্ব বৈশিষ্ট্য অনুসারে কর্ম সম্পাদন করাই ধর্ম।” ভগবান সুনিয়ন্ত্রিত ভাবে কর্ম সম্পাদনাকে কর্মযােগ বলেছেন। কর্মে সিদ্ধি লাভ হলেই জ্ঞানের উদয় হয় । জ্ঞান যখনই পরিপূর্ণতায় আসে তখনই আসে ভক্তি । ভক্তির উদয় হলে তখন নিজের বলে আর কিছু থাকে না । ভক্তের দৃষ্টিতে এই বিশ্বের সব কিছুর মধ্যেই ঈশ্বরের রূপ মনে হয়। ভক্ত ভগবানের নিকট আত্ম সমর্পণ করে সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি লাভ করেন। ঈশ্বর যন্ত্রী, আমি যন্ত্র, তিনি রথী, আমি রথ । এই ভক্তিসহ আমাদের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে অনেক উপদেশ গীতায় রয়েছে। এজন্য গীতা আমাদের নিত্য পাঠ্যপুস্তক। গীতা সমস্ত উপনিষদের সার। যিনি প্রতিদিন ভক্তিযুক্ত হয়ে গীতা এক অধ্যায় পাঠ করেন, তিনি বেদ পুরাণাদি পাঠের সমস্ত ফললাভ করেন। যিনি গীতা পাঠের পর গীতার মাহাত্ম্য পাঠ করেন তিনি পূণ্য লাভ করেন।


শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র জীবনী   Sri sri ṭhakura anukula candra

 শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র

শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র জীবনী   Sri sri ṭhakura anukula candra


বাংলা সন  ১২৯৫ সালে ৩০শে ভাদ্র পাবনা জেলার হিমাইতপুর গ্রামে ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র জন্মগ্রহণ করেন।


এটা তাঁর মাতুলালয়। পিতৃ-নিবাস পাবনা জেলার
শুয়াখাড়া গ্রাম।
অনুকূলচন্দ্রের পিতার নাম শিবচন্দ্র চক্রবর্তী অনুকূলচন্দ্রের জন্মের এক বছর পরই পতিপুত্রহীনা অসহায় শাশুড়ীর অনুরোধে তিনি শুয়াখাড়া থেকে হিমাইতপুর চলে আসেন।

অনুকূলচন্দ্রের জননী মনােমােহিনী দেবী ছিলেন একজন
পতিপ্রাণ। সতীসাধ্বী রমণী। শৈশবেই তিনি অলৌকিকভাবে
সিদ্ধি করেছিলেন। তিনি সুদূর আগ্রার সন্ত সদ্গুরু শ্রীশ্রীহুজুর
মহারাজের কৃপা লাভ করেছিলেন। এই মহারাজেরই শিষ্য
সরকার সাহেবের নির্দেশে জননী মনোমােহিনী দেবী
অনুকূলচন্দ্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে দীক্ষা দান করেন।
উত্তাল পদ্মার মত অপরিমেয় প্রাণ শক্তির অধিকারী অনুকূলচন্দ্র
শৈশব থেকেই অনন্যসাধারণ। তাঁর দুরন্তপনার অবধি ছিলনা। দুষ্টুমিতে অতিষ্ঠ হলেও তাঁর
হাসিমাখা মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিবেশীরা শাসন করতে ভুলে যেতেন। কিন্তু তার ওপর মায়ের
শাসন ছিল নির্ম।
“মাতৃভক্তি  অটুটিযত, সেই ছেলে হয় কৃতী তত।
পিতার শ্রদ্ধার মায়েরটান, সেই ছেলে হয় সাম্য প্রাণ।"
পরিণত বয়সে উচ্চারিত ঠাকুর অনুকূল এই বাণী অনুকূলচন্দ্রের জীবনে সার্থক রূপ পেয়েছিল। মা বাবার মুখে হাসি ফোটাতে সকল কষ্টই তিনি অকাতরে সইতে পারতেন। পিতা-মাতার প্রতি ছিল তার অগাধ শ্রদ্ধা। তেমনি ভক্তি করতেন তাঁর শিক্ষকবৃন্দকে । ভালবাসতেন তাঁর সহপাঠী সঙ্গীসাথীদের। ক্লাসের ছেলেরা তাকে কেউ বলতেন ‘প্রভু, আবার কেউ আর একধাপ এগিয়ে বলতেন
“অনুকূল আমাদের রাজা ভাই।"
পাবনা ইনষ্টিটিউটে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর অনুকুলচন্দ্র নৈহাটী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য মনােনীত হন। কিন্তু সে পরীক্ষা দেওয়া আর তাঁর ভাগ্যে ঘটেনি। একজন সহপাঠী পরীক্ষার ফিসের টাকা যােগাড় করতে পারেনি দেখে ব্যথিত অনুকূলচন্দ্র নিজের টাকাটা তাকে দিয়ে দেন। মায়ের ইচ্ছা পূরণের জন্য এর পর তিনি কলকাতার ন্যাশনাল মেডিক্যালে-এ ভর্তি হন। বাড়িতে পিতা অসুস্থ,সংসারে দারিদ্রের কালো ছায়া । প্রতি মাসে বাড়ি থেকে যে সামান্য টাকা অসিত তাতে তাঁর কলকাতার লেখাপড়া ও খাওয়াদাওয়ার ব্যয় নির্বাহ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ত। কয়লার গুদামের কুলিদের সাথে এক কষ্টকর পরিবেশে একই ঘরে  থাকতে হত । আহার কখন ও জুটত, কখনও রাস্তার পাশের কল থেকে
পেটে পানি খেতে হলো।  আর্থিক অসুবিধার মধ্যেও অনুকূলচন্দ্র ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু
  ব্যবহার করুন।  প্রতিবেশী চিকিৎসক হেমন্ত কুমার চট্টোপাধ্যায় তাঁর হৃদয়ের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন
  মেডিকেল বক্স তার জন্য একটি উপহার।  সেই ওষুধ দিয়েই কুলিমজুরের সেবা শুরু করেন অনুকূল চন্দ্র।
  সেবার উপভোগের সাথে সাথে ব্যয় করা অর্থের পরিমাণে সামান্য বৃদ্ধি আসে, ধীরে ধীরে তার আর্থিক অসুবিধা বৃদ্ধি পায়।অনুকূল চন্দ্র ডাক্তার হয়ে কলকাতা থেকে নিজ শহরে ফিরে আসেন।হিমাইতপুরে চিকিৎসক হিসেবে  তার কর্মজীবন শুরু হয়।  এ জীবনে আসে তার অভূতপূর্ব সাফল্য, কী ওষুধ, কী টাকা।কিন্তু তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে আত্মপ্রসাদ টাকা।টাকার দিকে নয়, রাগের দিকে তাকাও।  "
  ক্ষোভের চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি পরিচিত হন মানুষের নানা যন্ত্রণার সঙ্গে।  সে.
  বোঝা গেল, মানুষের দুঃখ-কষ্ট চিরতরে দূর করতে হলে এই তিন প্রকার শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক
  রাগের চিকিৎসা দরকার।  মানসিক রোগের চিকিৎসা শুরু করেন।
চাঁদের রশ্মি জাতি ও ধর্মের মতো ধনী-গরিব ভেদাভেদ করে না, সকলের ওপর সমানভাবে পড়ে।
  হিন্দু-মুসলিম, ধনী-গরিব, যুবক-বৃদ্ধ সবার প্রতি ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের ভালোবাসা
  সমানে বৃষ্টি হয়েছে।
  অনুকূল চন্দ্র মনে করতেন, মানুষের জীবনে পরিবেশের প্রভাব অপরিসীম।  উন্নত পরিবেশ, আধ্যাত্মিক
  সমাবেশ একজন মানুষের জীবন পরিবর্তন করতে পারে।  তাই আধ্যাত্মিক বিকাশের জন্য অনুকূল চাঁদ
  তিনি তার সঙ্গীদের নিয়ে একটি কীর্তন দল গঠন করেন।  প্রতাপপুরের শুরুতে কিশেরীমহেনের
  বাড়িতে কীর্তন সভা হতো।  ধীরে ধীরে কীর্তনানন্দে গ্রামের মিছিল শুরু হয়।  
কীর্তনের একটি
  মাঝে মাঝে অনুকুল চন্দ্র হঠাৎ করেই চিন্তা-সমাধিতে মগ্ন হয়ে যেতেন।  সে অজ্ঞান হয়ে গেল
  পড়ুন।  মুখ ঐশ্বরিক আলো উন্মুক্ত ছিল, এবং
  মুখ থেকে শব্দগুলো ধীরে ধীরে উচ্চারিত হতো সুমধুর কণ্ঠে বিভিন্ন ভাষায়।  সত্তরতম দিনের বাণী এমনই
  সংগ্রহে 'পুণ্যপুঁথি' নামে একটি অমূল্য গ্রন্থ তৈরি করা হয়েছে।  তখন থেকেই তাকে ডাক্তার বলে ডাকতে ভিড় জমায় মানুষ
  না বলিয়া ঠাকুর নমস্কার করিতে লাগিলেন।
অনুকূল চাঁদের এই ঐশ্বরিক মহিমার কথা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে। শৈশবের সঙ্গী অনন্তনাথ
  রায়, কিশেরী মহেন দাস এবং সতীশ চন্দ্র গয়েস্বামী এই সময়ে ঠাকুরকে তাদের গুরু হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন।
  এরা ঠাকুরের কীর্তন যুগের সঙ্গী।
ঠাকুরের উপলব্ধিতে এল কীর্তন মানুষের মনকে উচ্চতর স্তরে নিয়ে যায়, কিন্তু সেই অবস্থায়
    বেশিক্ষণ ধরে রাখা যায় না।   মনের স্থায়ী বিকাশ ঘটাতে চাইলে সন্নামের কথা মনে রাখতে হবে।  এবং
  তাই দীক্ষা একান্ত প্রয়োজন।  সূচনা হল সনম প্রচারের গৌরবময় অধ্যায়।  ভক্ত এবং অনুরাগীরা
  ধীরে ধীরে সংখ্যা বাড়তে থাকে।  পদ্মার দক্ষিণ তীরে শ্রীশ্রীঠাকুরের নামে প্রেমের জোয়ার
  কুষ্টিয়ার বুকেও ঢেউ ওঠে। 
 ঠাকুর অনুকুল চন্দ্রের বিশিষ্ট ভক্ত ডঃ গায়কুল চন্দ্র মন্ডল, বীরেন্দ্র নাথ
  রায় ও অশ্বিনী কুমার বিশ্বাসের প্রচেষ্টায় ১৩২৫ সালে কুষ্টিয়া শহরে প্রথম শ্রীশ্রীঠাকুরের জন্ম তারিখ।
  উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়।  উৎসবে যোগ দেন বিভিন্ন স্থান থেকে বহু মানুষ
  এবং শ্রীশ্রীঠাকুরকে গুরুপদ হিসেবে গ্রহণ করেন।
  তারাই সত্যের প্রতি আসক্তির সাথে সঙ্গ লাভ করে।
  সত্যং।  সৎসঙ্গ আনুষ্ঠানিকভাবে 1925 সালে একটি প্রতিষ্ঠান হিসাবে নিবন্ধিত হয়েছিল। সৎসঙ্গগুলির মধ্যে প্রথম
  প্রধান দেবতা হলেন শ্রীশ্রীঠাকুরের মাতা মন মাহানি দেবী।  সেখানে শুরু হয়েছিল মানুষের চাষাবাদ,
  লক্ষ্য হল কর্মের মাধ্যমে আরও যোগ্য লোক তৈরি করা।

শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র  শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র জীবনী শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র বাংলা সন  ১২৯৫ সালে ৩০শে ভাদ্র পাবনা জেলার হিমাইতপুর গ্রামে ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র জন্মগ্রহণ করেন।  এটা তাঁর মাতুলালয়। পিতৃ-নিবাস পাবনা জেলার শুয়াখাড়া গ্রাম।অনুকূলচন্দ্রের পিতার নাম শিবচন্দ্র চক্রবর্তী অনুকূলচন্দ্রের জন্মের এক বছর পরই পতিপুত্রহীনা অসহায় শাশুড়ীর অনুরোধে তিনি শুয়াখাড়া থেকে হিমাইতপুর চলে আসেন। অনুকূলচন্দ্রের জননী মনােমােহিনী দেবী ছিলেন একজন পতিপ্রাণ। সতীসাধ্বী রমণী। শৈশবেই তিনি অলৌকিকভাবে সিদ্ধি করেছিলেন। তিনি সুদূর আগ্রার সন্ত সদ্গুরু শ্রীশ্রীহুজুর মহারাজের কৃপা লাভ করেছিলেন। এই মহারাজেরই শিষ্য সরকার সাহেবের নির্দেশে জননী মনোমােহিনী দেবী অনুকূলচন্দ্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে দীক্ষা দান করেন। উত্তাল পদ্মার মত অপরিমেয় প্রাণ শক্তির অধিকারী অনুকূলচন্দ্র শৈশব থেকেই অনন্যসাধারণ। তাঁর দুরন্তপনার অবধি ছিলনা। দুষ্টুমিতে অতিষ্ঠ হলেও তাঁর হাসিমাখা মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিবেশীরা শাসন করতে ভুলে যেতেন। কিন্তু তার ওপর মায়ের শাসন ছিল নির্ম। “মাতৃভক্তি  অটুটিযত, সেই ছেলে হয় কৃতী তত। পিতার শ্রদ্ধার মায়েরটান, সেই ছেলে হয় সাম্য প্রাণ।" পরিণত বয়সে উচ্চারিত ঠাকুর অনুকূল এই বাণী অনুকূলচন্দ্রের জীবনে সার্থক রূপ পেয়েছিল। মা বাবার মুখে হাসি ফোটাতে সকল কষ্টই তিনি অকাতরে সইতে পারতেন। পিতা-মাতার প্রতি ছিল তার অগাধ শ্রদ্ধা। তেমনি ভক্তি করতেন তাঁর শিক্ষকবৃন্দকে । ভালবাসতেন তাঁর সহপাঠী সঙ্গীসাথীদের। ক্লাসের ছেলেরা তাকে কেউ বলতেন ‘প্রভু, আবার কেউ আর একধাপ এগিয়ে বলতেন “অনুকূল আমাদের রাজা ভাই।" পাবনা ইনষ্টিটিউটে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর অনুকুলচন্দ্র নৈহাটী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য মনােনীত হন। কিন্তু সে পরীক্ষা দেওয়া আর তাঁর ভাগ্যে ঘটেনি। একজন সহপাঠী পরীক্ষার ফিসের টাকা যােগাড় করতে পারেনি দেখে ব্যথিত অনুকূলচন্দ্র নিজের টাকাটা তাকে দিয়ে দেন। মায়ের ইচ্ছা পূরণের জন্য এর পর তিনি কলকাতার ন্যাশনাল মেডিক্যালে-এ ভর্তি হন। বাড়িতে পিতা অসুস্থ,সংসারে দারিদ্রের কালো ছায়া । প্রতি মাসে বাড়ি থেকে যে সামান্য টাকা অসিত তাতে তাঁর কলকাতার লেখাপড়া ও খাওয়াদাওয়ার ব্যয় নির্বাহ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ত। কয়লার গুদামের কুলিদের সাথে এক কষ্টকর পরিবেশে একই ঘরে  থাকতে হত । আহার কখন ও জুটত, কখনও রাস্তার পাশের কল থেকে পেটে পানি খেতে হলো।  আর্থিক অসুবিধার মধ্যেও অনুকূলচন্দ্র ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু   ব্যবহার করুন।  প্রতিবেশী চিকিৎসক হেমন্ত কুমার চট্টোপাধ্যায় তাঁর হৃদয়ের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন   মেডিকেল বক্স তার জন্য একটি উপহার।  সেই ওষুধ দিয়েই কুলিমজুরের সেবা শুরু করেন অনুকূল চন্দ্র।   সেবার উপভোগের সাথে সাথে ব্যয় করা অর্থের পরিমাণে সামান্য বৃদ্ধি আসে, ধীরে ধীরে তার আর্থিক অসুবিধা বৃদ্ধি পায়।অনুকূল চন্দ্র ডাক্তার হয়ে কলকাতা থেকে নিজ শহরে ফিরে আসেন।হিমাইতপুরে চিকিৎসক হিসেবে  তার কর্মজীবন শুরু হয়।  এ জীবনে আসে তার অভূতপূর্ব সাফল্য, কী ওষুধ, কী টাকা।কিন্তু তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে আত্মপ্রসাদ টাকা।টাকার দিকে নয়, রাগের দিকে তাকাও।  "   ক্ষোভের চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি পরিচিত হন মানুষের নানা যন্ত্রণার সঙ্গে।  সে.   বোঝা গেল, মানুষের দুঃখ-কষ্ট চিরতরে দূর করতে হলে এই তিন প্রকার শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক   রাগের চিকিৎসা দরকার।  মানসিক রোগের চিকিৎসা শুরু করেন। চাঁদের রশ্মি জাতি ও ধর্মের মতো ধনী-গরিব ভেদাভেদ করে না, সকলের ওপর সমানভাবে পড়ে।   হিন্দু-মুসলিম, ধনী-গরিব, যুবক-বৃদ্ধ সবার প্রতি ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের ভালোবাসা   সমানে বৃষ্টি হয়েছে।   অনুকূল চন্দ্র মনে করতেন, মানুষের জীবনে পরিবেশের প্রভাব অপরিসীম।  উন্নত পরিবেশ, আধ্যাত্মিক   সমাবেশ একজন মানুষের জীবন পরিবর্তন করতে পারে।  তাই আধ্যাত্মিক বিকাশের জন্য অনুকূল চাঁদ   তিনি তার সঙ্গীদের নিয়ে একটি কীর্তন দল গঠন করেন।  প্রতাপপুরের শুরুতে কিশেরীমহেনের   বাড়িতে কীর্তন সভা হতো।  ধীরে ধীরে কীর্তনানন্দে গ্রামের মিছিল শুরু হয়।   কীর্তনের একটি   মাঝে মাঝে অনুকুল চন্দ্র হঠাৎ করেই চিন্তা-সমাধিতে মগ্ন হয়ে যেতেন।  সে অজ্ঞান হয়ে গেল   পড়ুন।  মুখ ঐশ্বরিক আলো উন্মুক্ত ছিল, এবং   মুখ থেকে শব্দগুলো ধীরে ধীরে উচ্চারিত হতো সুমধুর কণ্ঠে বিভিন্ন ভাষায়।  সত্তরতম দিনের বাণী এমনই   সংগ্রহে 'পুণ্যপুঁথি' নামে একটি অমূল্য গ্রন্থ তৈরি করা হয়েছে।  তখন থেকেই তাকে ডাক্তার বলে ডাকতে ভিড় জমায় মানুষ   না বলিয়া ঠাকুর নমস্কার করিতে লাগিলেন। অনুকূল চাঁদের এই ঐশ্বরিক মহিমার কথা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে। শৈশবের সঙ্গী অনন্তনাথ   রায়, কিশেরী মহেন দাস এবং সতীশ চন্দ্র গয়েস্বামী এই সময়ে ঠাকুরকে তাদের গুরু হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন।   এরা ঠাকুরের কীর্তন যুগের সঙ্গী। ঠাকুরের উপলব্ধিতে এল কীর্তন মানুষের মনকে উচ্চতর স্তরে নিয়ে যায়, কিন্তু সেই অবস্থায়     বেশিক্ষণ ধরে রাখা যায় না।   মনের স্থায়ী বিকাশ ঘটাতে চাইলে সন্নামের কথা মনে রাখতে হবে।  এবং   তাই দীক্ষা একান্ত প্রয়োজন।  সূচনা হল সনম প্রচারের গৌরবময় অধ্যায়।  ভক্ত এবং অনুরাগীরা   ধীরে ধীরে সংখ্যা বাড়তে থাকে।  পদ্মার দক্ষিণ তীরে শ্রীশ্রীঠাকুরের নামে প্রেমের জোয়ার   কুষ্টিয়ার বুকেও ঢেউ ওঠে।   ঠাকুর অনুকুল চন্দ্রের বিশিষ্ট ভক্ত ডঃ গায়কুল চন্দ্র মন্ডল, বীরেন্দ্র নাথ   রায় ও অশ্বিনী কুমার বিশ্বাসের প্রচেষ্টায় ১৩২৫ সালে কুষ্টিয়া শহরে প্রথম শ্রীশ্রীঠাকুরের জন্ম তারিখ।   উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়।  উৎসবে যোগ দেন বিভিন্ন স্থান থেকে বহু মানুষ   এবং শ্রীশ্রীঠাকুরকে গুরুপদ হিসেবে গ্রহণ করেন।   তারাই সত্যের প্রতি আসক্তির সাথে সঙ্গ লাভ করে।   সত্যং।  সৎসঙ্গ আনুষ্ঠানিকভাবে 1925 সালে একটি প্রতিষ্ঠান হিসাবে নিবন্ধিত হয়েছিল। সৎসঙ্গগুলির মধ্যে প্রথম   প্রধান দেবতা হলেন শ্রীশ্রীঠাকুরের মাতা মন মাহানি দেবী।  সেখানে শুরু হয়েছিল মানুষের চাষাবাদ,   লক্ষ্য হল কর্মের মাধ্যমে আরও যোগ্য লোক তৈরি করা। শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র জীবনী শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র জীবনী     হিমাইতপুর সৎসঙ্গ আশ্রম ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের এক অপূর্ব সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়।  শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, বিবাহ   এই চার স্তরের অস্তিত্বের প্রকাশ।  আশ্রমে স্থাপিত হয় বিভিন্ন ধরনের কর্মজীবনমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।  প্রাচীন ঋষি তপাইবনের নতুন সংস্করণের মতো।  ব্রহ্মচর্য-গর্হস্থ-বনপ্রস্থ-সন্ন্যাস সনাতন আর্য   জীবনের এই চারটি স্তর সৎসঙ্গ আশ্রম-ভূমিতে একটি সুরেলা যুগ-নির্মাণ রূপ ধারণ করে।   ধর্মের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে শ্রীশ্রীঠাকুর বলেন, ধর্ম হলো বেঁচে থাকার বিজ্ঞান।  নিজেকে বাঁচাতে   বৃদ্ধি হবে.  একই সাথে, অন্যের বেঁচে থাকা বাড়ানো যাতে এটি ব্যাহত না হয়, সেদিকেও মনোযোগ দেওয়া   হবে কথাটা তিনি ছন্দময় সুরে বললেন  ‘ সে বেঁচে থাকে অন্যকে বাঁচানোর জন্য, তুমি তাকে ধর্ম বলে জানো।   ধর্ম বেঁচে থাকার অর্থ যে জানে!  "   প্রতিটি জীবের মধ্যে বেঁচে থাকার এবং বৃদ্ধি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে।  এটি বেঁচে থাকার পক্ষে   এর কিছু অনুসরণ করা গ্রহণযোগ্য।  তার ক্ষতির জন্য যা তার থেকে বাদ দেওয়া হয়।   শ্রীশ্রীঠাকুরের মতে ধর্ম এক, বহু নয়।  তিনি বলেন   সবাই ধর্মে বাস করে, সম্প্রদায় ধর্ম নয়।  "   "ঈশ্বর এক, ধর্ম এক, প্রেরিতরা বার্তাবাহক।" কাল ও স্থানের সীমারেখায় মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক পার্থক্য হল ধর্মের বাহ্যিক বা আনুষ্ঠানিক প্রকৃতি।   অভিমুখ.  আর প্রকৃত মানবতার বিকাশের সাধনায় আধ্যাত্মিক বিকাশের সাধনা চিরন্তন   অভিমুখ.  জনগণের মধ্যে ঐক্য স্থাপনের জন্য বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আনুষ্ঠানিক পার্থক্য সহ্য করা   সকলের জন্য চিরন্তন মানবতার সাধনায় আত্মত্যাগের সুযোগ মুক্ত করুন   তুলে নিতে.   'সৎসঙ্গ' কি চায়?  এই প্রশ্নের উত্তরে ঠাকুর বলেন, “মানুষ সঙ্গ চায়।  তিনি একটি চান   পরম রাষ্ট্র সমবায়, যাতে কেউ অভ্যর্থনা যেমন একটি ত্রুটি আছে.  এই পৃথিবীতে সবাই   পারস্পরিক সহযোগিতায় বুক ফুলিয়ে সফল হওয়া যায়, মুক্ত হওয়া যায়।  বিভিন্ন ধরনের সমিতি   প্রয়াসের মূল লক্ষ্য মানুষ তৈরি করা।  যোগ্য লোক না এলে দুনিয়ার দুঃখ থেকে দুঃখ আসবে   হ্যাঁ!   শ্রীশ্রীঠাকুরের করা সত্যবাদিতা, চলার সঙ্গী, নানা প্রসঙ্গে, কথার প্রেক্ষাপটে, ইসলামের প্রেক্ষাপটে, বিয়ে   বিধানে, শিক্ষা বিধান, নিষ্ঠা বিধান, বিজ্ঞান বিভূতি, সমাজ সন্দীপনা, আর্যকৃষ্টি ইত্যাদি।   তার মহৎ আদর্শের প্রতিফলন। শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্র পরলোকগমন     শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্র ১৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১২ মাঘ ৬১ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন।


  হিমাইতপুর সৎসঙ্গ আশ্রম ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের এক অপূর্ব সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়।  শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, বিবাহ
  এই চার স্তরের অস্তিত্বের প্রকাশ।  আশ্রমে স্থাপিত হয় বিভিন্ন ধরনের কর্মজীবনমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
 প্রাচীন ঋষি তপাইবনের নতুন সংস্করণের মতো।  ব্রহ্মচর্য-গর্হস্থ-বনপ্রস্থ-সন্ন্যাস সনাতন আর্য
  জীবনের এই চারটি স্তর সৎসঙ্গ আশ্রম-ভূমিতে একটি সুরেলা যুগ-নির্মাণ রূপ ধারণ করে।
  ধর্মের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে শ্রীশ্রীঠাকুর বলেন, ধর্ম হলো বেঁচে থাকার বিজ্ঞান।  নিজেকে বাঁচাতে
  বৃদ্ধি হবে.  একই সাথে, অন্যের বেঁচে থাকা বাড়ানো যাতে এটি ব্যাহত না হয়, সেদিকেও মনোযোগ দেওয়া
  হবে কথাটা তিনি ছন্দময় সুরে বললেন
 ‘
সে বেঁচে থাকে অন্যকে বাঁচানোর জন্য, তুমি তাকে ধর্ম বলে জানো।
  ধর্ম বেঁচে থাকার অর্থ যে জানে!  "
  প্রতিটি জীবের মধ্যে বেঁচে থাকার এবং বৃদ্ধি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে।  এটি বেঁচে থাকার পক্ষে
  এর কিছু অনুসরণ করা গ্রহণযোগ্য।  তার ক্ষতির জন্য যা তার থেকে বাদ দেওয়া হয়।
  শ্রীশ্রীঠাকুরের মতে ধর্ম এক, বহু নয়।  তিনি বলেন
  সবাই ধর্মে বাস করে, সম্প্রদায় ধর্ম নয়।  "
  "ঈশ্বর এক, ধর্ম এক, প্রেরিতরা বার্তাবাহক।"
কাল ও স্থানের সীমারেখায় মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক পার্থক্য হল ধর্মের বাহ্যিক বা আনুষ্ঠানিক প্রকৃতি।
  অভিমুখ.  আর প্রকৃত মানবতার বিকাশের সাধনায় আধ্যাত্মিক বিকাশের সাধনা চিরন্তন
  অভিমুখ.  জনগণের মধ্যে ঐক্য স্থাপনের জন্য বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আনুষ্ঠানিক পার্থক্য সহ্য করা
  সকলের জন্য চিরন্তন মানবতার সাধনায় আত্মত্যাগের সুযোগ মুক্ত করুন
  তুলে নিতে.
  'সৎসঙ্গ' কি চায়?  এই প্রশ্নের উত্তরে ঠাকুর বলেন, “মানুষ সঙ্গ চায়।  তিনি একটি চান
  পরম রাষ্ট্র সমবায়, যাতে কেউ অভ্যর্থনা যেমন একটি ত্রুটি আছে.  এই পৃথিবীতে সবাই
  পারস্পরিক সহযোগিতায় বুক ফুলিয়ে সফল হওয়া যায়, মুক্ত হওয়া যায়।  বিভিন্ন ধরনের সমিতি
  প্রয়াসের মূল লক্ষ্য মানুষ তৈরি করা।  যোগ্য লোক না এলে দুনিয়ার দুঃখ থেকে দুঃখ আসবে
  হ্যাঁ!
  শ্রীশ্রীঠাকুরের করা সত্যবাদিতা, চলার সঙ্গী, নানা প্রসঙ্গে, কথার প্রেক্ষাপটে, ইসলামের প্রেক্ষাপটে, বিয়ে
  বিধানে, শিক্ষা বিধান, নিষ্ঠা বিধান, বিজ্ঞান বিভূতি, সমাজ সন্দীপনা, আর্যকৃষ্টি ইত্যাদি।
  তার মহৎ আদর্শের প্রতিফলন।


শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র জীবনী   Sri sri ṭhakura anukula candra

শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্র পরলোকগমন



  
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূল চন্দ্র ১৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১২ মাঘ ৬১ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন।


দৈত্যরাজ বলি,Daityaraj Boli

 সাত চিরঞ্জীবের মধ্যে একজন হলেন দৈত্যরাজ বলি, 

দৈত্যরাজ বলি,Daityaraj Boli

যিনি মহাবালি, বলিরাজা এবং দৈত্যেন্দ্র নামেও পরিচিত। বলিরাজের পিতা ছিলেন বিরোচন, তাঁর পিতা মহ প্রহ্লাদ ছিলেন বিষ্ণুর ভক্ত এবং তাঁর প্রপিতামহ ছিলেন দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপু। বলিরাজা একজন শাসক হিসেবে অত্যন্ত ধার্মিক, পরোপকারী এবং উদার ছিলেন। কিন্তু যারা অসুরকুলে জন্মগ্রহণ করেন তারা প্রায় সকলেই স্বভাবতই দেবদেবী হয়ে ওঠেন। তাছাড়া বলিরাজার অহংকারও ছিল বিশাল। তিনি ভগবান বিষ্ণুকে তাঁর চেয়ে শক্তিতে দুর্বল এবং শত্রু মনে করেছিলেন। বিপরীতে, দেবতারা বরাবরই অসুরদের বিরোধী। একবার তিনি স্থায়ীভাবে ইন্দ্রপদ লাভের জন্য 'শতশ্বমেধ যজ্ঞ' করার সিদ্ধান্ত নেন। এই যজ্ঞের প্রস্তুতির সময়, বিষ্ণুর প্রতি তার হিংসাত্মক এবং অবজ্ঞাপূর্ণ মনোভাবের জন্য তিনি তার পিতামহ ভক্ত প্রহ্লাদের দ্বারা অভিশাপিত হয়েছিলেন। বলিরাজাকে অভিশাপ দিয়ে, বিষ্ণুর একজন মহান ভক্ত প্রহ্লাদ বলেছিলেন, "যে ভগবান সর্বশক্তিমান, যাঁর ইচ্ছায় জগৎ সৃষ্টি ও বিনষ্ট হয়, তিনি তাঁর শক্তির শত্রু বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবেন না।" এটা ভাবা বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। রাজা হিরণ্যকশিপু যিনি আপনার চেয়েও শক্তিশালী ছিলেন, তিনিও নৃসিংহরূপী শ্রীহরি কর্তৃক নিহত হন। এমনকি আমি নিজেও প্রতি নিঃশ্বাসে শ্রীহরির নাম স্মরণ করি। আমার আরাধ্যকে অপমান করার জন্য আমি তোমাকে অভিশাপ দিচ্ছি যে তোমার শতশ্ব মধ্যযজ্ঞ কখনই সম্পূর্ণ হবে না। তোমার সমগ্র সাম্রাজ্যের পতন ঘটবে। আর যতক্ষণ না তোমার মনে বিষ্ণুভক্তি জাগ্রত হবে, ততক্ষণ তুমি উঠবে না।" বালিরাজা তার পিতামহ প্রহ্লাদের কথায় কর্ণপাত না করে শতশ্বমেধ যজ্ঞ শুরু করেছিলেন। সেখানে ঋষি, ব্রাহ্মণ, দরিদ্র সকলেই এসে বলিরাজকে তাদের কাঙ্খিত উপহার দিয়ে আশীর্বাদ করলেন। 

আরও পড়ুনঃ বালী বধ ন্যায় নাকি অন্যায়

মহারাজ কুরবানী না করেই সকলে যা চান তা দান করতে শুরু করেন।এমন সময় মাথায় ছাতাওয়ালা এক খাটো লোক সেখানে উপস্থিত হয়।বলিরাজা এই বামনকে জিজ্ঞেস করেন তিনি কি চান।উত্তরে বামন তিনটি পা চাইল।এই ছোট বা বামন ব্যক্তিটি ছিল। স্বয়ং ভগবান শ্রীহরির বামন অবতার।বলিরাজা তাকে চিনতে পারেননি,কিন্তু অসুরগুরু শুক্রাচার্য তাকে সঠিকভাবে চিনতে পেরেছিলেন।তাই তিনি বলিরাজাকে বামনদেবের কাঙ্খিত ত্রিপদ ভূমি দিতে নিষেধ করেন।কিন্তু বলিরাজা অসুরগুরুর উপদেশ অগ্রাহ্য করে তাকে ত্রিপদ ভূমি প্রদান করেন। 

অসুররাজ বলি

দৈত্যরাজ বলি,Daityaraj Boli

 খর্বকায় বামনদেব অনেক বড় হয়ে গেলেন। তিনি তাঁর এক পা দিয়ে সমগ্র আকাশ প্রসারিত করলেন। দ্বিতীয় পা দিয়ে তিনি সমগ্র বিশ্বকে পাঠ করলেন। তারপর তিনি তৃতীয় পা বের করলেন। তার শরীর এবং বলিরাজাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "অন্য পা কোথায়?" বলিরাজা এতক্ষণে বুঝতে পেরেছিলেন যে বামনদেব সাধারণ ভিক্ষুক নন। তিনি স্বয়ং ভগবান বিষ্ণুর অবতার। সেই মুহূর্তে তাঁর মনে বিষ্ণুভক্তি জেগে ওঠে। তিনি পরমেশ্বর ভগবানের কাছে মাথা দিয়ে বললেন, "হে প্রভু, আমার এই নির্বোধ মাথাটি আপনার তৃতীয় পায়ের স্থান হোক।" বলিরাজের ইচ্ছানুসারে বামনদেব তৃতীয় পা তাঁর মাথায় রেখে তাঁকে পাতালে পাঠান। কিন্তু ভগবান বিষ্ণু বিষ্ণুর প্রতি বলিরাজার ভক্তি এবং নিজের বিপদ জেনেও তাঁর প্রতিশ্রুতি পালনে তাঁর প্রতিশ্রুতি দেখে খুশি হয়ে তাঁকে 'অমরত্ব' এবং পূর্ণ ঐশ্বর্য সহ চতুর্থ পাশ্ববর্তী সুতোলক রাজ্য দান করেন। এছাড়াও তিনি নিজে বলিরাজার প্রাসাদের দারোয়ান হিসেবে সেখানে বসবাস করতেন। উপরন্তু, বিষ্ণুদেব বলিরাজাকে পরবর্তী সাবর্ণী মন্বন্তরাতে ইন্দ্র হওয়ার জন্য আশীর্বাদ করেছিলেন। দৈত্যরাজ বলিকে বলা হয় পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ রাক্ষস সব কিছু হারিয়েও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জন্য। এই মহাবলীকে দ্বাদশ বৈষ্ণব মহাজনদের একজন বলে মনে করা হয়। এবং বলাই বাহুল্য, তিনি সনাতন শাস্ত্রে উল্লিখিত সাত অমরদের একজন।

Ads 728x90