সিদ্ধার্থে চরিএ দেখে মুগ্ধ হলেন দেবদত্ত
সিদ্ধার্থ যেখানে বসে হাঁসটির শুশ্রুষা করছিলেন, সেখানে দৌড়ে এসে উপস্থিত হলে দেবদত্ত।এই দেবদত্ত ছিলেন সিদ্ধার্থের খেলার সাথী। দেবদত্ত এসে বললেন, - এই যে সিদ্ধার্থ, হাসটি দেখছি তোমার কাছে। আমিই হাঁসটিকে তীরবিদ্ধ করেছি। শিকার শিকারীরই প্রাপ্য । তাই হাঁসটি আমার । আমার হাঁস আমাকে দিয়ে। দাও। উত্তরে সিদ্ধার্থ বললেন, দেবদত্ত, হাঁসটি তােমাকে আমি দেব কেন, আমার হাঁস, আমাকে লেবেলা কেন? তুমি হাঁসটিকে তীরবিদ্ধ করে অন্যায় করেছ দেবদও। তােমাকে আঘাত করলে যেমন তুমি। কষ্ট পাও, তেমনি তােমার আঘাতে অন্য ঐীবও কষ্ট পায় । হাঁসটি তােমার তীরে আহত হয়ে। কি কষ্ট পাচ্ছে, দেখ । এখন আমাদের কর্তব্য হচ্ছে, ওর শুশ্রুষা করে ওর কষ্ট দূর করার চেষ্টা করাদেবদত্ত রেগে গেলেন। বললেন। সিদ্ধার্থ, ওসব কথা শুনতে আমি আসি নি। শিকার করেছি, শিকার খুঁজে পেয়েছি। আমার শিকার আমি নিয়ে যাব, ব্যাস।' শান্ত, ধীর ও গভীর কণ্ঠে সিদ্ধার্থ বললেনরাগ করাে না, দেবদত্ত। নিজের কস্টের কথা ভেবে অন্যের কষ্ট বােঝার চেষ্টা কর। এ হাঁসটিরও প্রাণ আছে। সুখ-দুঃখের অনুভূতি আছে। তুমি যেমন তোমার জীবনকে ভালবাস,হাঁস তার জীবনকে অনেক ভালোবাসে। তাদের ধ্বংস না করে জীবন বাঁচানো আমাদের কর্তব্য। দেবদত্ত একটু নরম হয়ে গেল। সিদ্ধার্থ বলতে লাগল।
তোমার হাতে হাঁস নিয়ে তাকে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিতে পারব না। তার বদলে তুমি যা চাইবে তাই দেব। আমাকে বলো কি চাও?আহত হাঁসটির জীবনের জন্য সিদ্ধার্থের মমতা দেখে মুগ্ধ হলেন দেবদত্ত। সিদ্ধার্থের জীবসেবার আদর্শ তাঁর হৃদয়কেও স্পর্শ করল সিদ্ধার্থে হাঁসটিকে সুস্থ করে আকাশে উড়িয়ে দিলেন। আর দেবদত্ত সিদ্ধার্থের প্রশান্ত মুখের দিকে বিমুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন।