ধর্মদর্শন
ধর্ম :
সংস্কৃত ধূ-ধাতু থেকে ধর্ম শব্দের উৎপত্তি। (ধৃ+ম = ধর্ম) ধূ-ধাতুর অর্থ হল ধারণ করা। অর্থাৎ যা মানুষকে ধারণ করে রাখে তাই ধর্ম। ধর্ম সত্য-- ও সুন্দর জীবন যাপনের পথ নির্দেশ করে এবং মানুষের সকল প্রকার কল্যাণ সাধন করে। কাজেই আমাদের সকলেরই ধর্ম মেনে চলা উচিত।
ধর্মের স্বরূপ ও লক্ষণ :
মনুসংহিতায় আছে ধর্ম কতকগুলাে গুণের সমষ্টি। সে গুণগুলাে যার মধ্যে থাকে তিনিই ধার্মিক।-
এই গুণগুলাে হল সহিষ্ণুতা, ক্ষমা, দয়া, চুরি না করা, শুচিতা, ইন্দ্রিয়সংযম, শুদ্ধবুদ্ধি, জ্ঞান,
সত্য ও অক্রোধ। এই দশটিকে ধর্মের স্বরূপ বা বাহ্য লক্ষণ বলে।
বেদঃ স্মৃতিঃ সদাচারঃ
স্বস্য চ প্রিয়মাত্মনঃ।
এতচ্চতুর্বিধং প্রাঃ
সাক্ষাৎ ধর্মস্য লক্ষণম্।।
অর্থাৎঃ বেদ, স্মৃতি, সদাচার ও বিবেকের বাণী এই চারটি ধর্মের সাধারণ লক্ষণ। এই চারটিকে ক্রমান্বয়ে অনুসরণ করে ধর্মাধর্ম নির্ণয় করতে হয়।
ধর্ম মেনে চলা উচিত কেন :
উপনিষদে বলা হয়েছে। “মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ উপায় প্রেয় ও শ্রেয়। প্রেয় অর্থ বাঞ্ছিত, প্রিয়, মনােমত আর শ্রেয় অহা মঙ্গল, শুভ বা পরম কল্যাণ। অর্থাৎ কর্ম ও ধর্মের মধ্য দিয়ে বাঞ্ছিত মঙ্গললাভ করাই হল মানুষের আকাঙ্ক্ষার বস্তু। ধর্ম পালন করলে জীবন সুন্দর হয়। ধন, জন, মান, যশ, সুখ ইত্যাদি লাভ হয়। পরলােকেও মঙ্গল সাধিত হয়। ধর্ম মানুষের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল সাধন করে। শাস্ত্রে আছে, “ধর্ম নষ্ট হলে নাশ করে, রক্ষিত হলে রক্ষা করে। তাই কখনও ধর্ম নষ্ট করতে নেই। সুখেই হােক, দুঃখেই হােক সবসময় ধর্মপথে থাকতে হবে। কেননা “ধর্মমূলং হি ভগবান' অর্থাৎ ভগবান ধর্মের মূল। ধর্ম মেনে চললে ভগবান খুশি হন। জীবন সুখের হয়। দুঃখের সময়েও প্রানে শান্তি আসে। ধর্ম অনুশীলন দ্বারা মনুষ্যত্ব লাভ হয়। মনুষ্যত্ব ছাড়া মানুষের জীবন পূর্ণাঙ্গ হয় না! ধর্ম ছাড়া। কোন দেশ ও জাতি বড় হয় না। তাই মনুষ্যত্ব লাভের জনং সকলেরই ধর্ম মেনে চলা উচিত