February 2024 - Radha Krishna Priam

Download Free Android Apps

Ads 728x90

Powered by Blogger.

Search This Blog

ধর্মদর্শন কি, এর ধারণা। What is Dharmadarshan, its concept.

 

ধর্মদর্শন

ধর্মদর্শন কি, এর ধারণা। What is Dharmadarshan, its concept.
যা থেকে মানুষের কল্যাণ হয়, তাকে ধর্ম বলে। জীবনে কল্যাণ লাভের জন্য মানুষ ধর্মকে আশ্রয় করে। আবার দর্শনও মানুষের কল্যাণ বিধান করে থাকে। দর্শন মানে শুধু চোখ দিয়ে দেখা নয়,বিচার বুদ্ধি দিয়ে জগত ও জীবনের স্বরূপ উপলদ্ধি করা। দর্শনের বহু শাখা রয়েছে। দর্শনের যে শাখা ধর্মের তত্ত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে বিচার বিবেচনা করে, তাকে বলা ধর্ম-দর্শন।


ধর্ম :

সংস্কৃত ধূ-ধাতু থেকে ধর্ম শব্দের উৎপত্তি। (ধৃ+ম = ধর্ম) ধূ-ধাতুর অর্থ হল ধারণ করা। অর্থাৎ যা মানুষকে ধারণ করে রাখে তাই ধর্ম। ধর্ম সত্য-- ও সুন্দর জীবন যাপনের পথ নির্দেশ করে এবং মানুষের সকল প্রকার কল্যাণ সাধন করে। কাজেই আমাদের সকলেরই ধর্ম মেনে চলা উচিত।

 

ধর্মের স্বরূপ ও লক্ষণ :

 মনুসংহিতায় আছে ধর্ম কতকগুলাে গুণের সমষ্টি। সে গুণগুলাে যার মধ্যে থাকে তিনিই ধার্মিক।-

এই গুণগুলাে হল সহিষ্ণুতা, ক্ষমা, দয়া, চুরি না করা, শুচিতা, ইন্দ্রিয়সংযম, শুদ্ধবুদ্ধি, জ্ঞান,

সত্য ও অক্রোধ। এই দশটিকে ধর্মের স্বরূপ বা বাহ্য লক্ষণ বলে।

বেদঃ স্মৃতিঃ সদাচারঃ

স্বস্য চ প্রিয়মাত্মনঃ।

এতচ্চতুর্বিধং প্রাঃ

সাক্ষাৎ ধর্মস্য লক্ষণম্।।

অর্থাৎঃ বেদ, স্মৃতি, সদাচার ও বিবেকের বাণী এই চারটি ধর্মের সাধারণ লক্ষণ। এই চারটিকে ক্রমান্বয়ে অনুসরণ করে ধর্মাধর্ম নির্ণয় করতে হয়।

ধর্ম মেনে চলা উচিত কেন


ধর্ম মেনে চলা উচিত কেন :

উপনিষদে বলা হয়েছে। “মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ উপায় প্রেয় ও শ্রেয়। প্রেয় অর্থ বাঞ্ছিত, প্রিয়, মনােমত আর শ্রেয় অহা মঙ্গল, শুভ বা পরম কল্যাণ। অর্থাৎ কর্ম ও ধর্মের মধ্য দিয়ে বাঞ্ছিত মঙ্গললাভ করাই হল মানুষের আকাঙ্ক্ষার বস্তু। ধর্ম পালন করলে জীবন সুন্দর হয়। ধন, জন, মান, যশ, সুখ ইত্যাদি লাভ হয়। পরলােকেও মঙ্গল সাধিত হয়। ধর্ম মানুষের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল সাধন করে। শাস্ত্রে আছে, “ধর্ম নষ্ট হলে নাশ করে, রক্ষিত হলে রক্ষা করে। তাই কখনও ধর্ম নষ্ট করতে নেই। সুখেই হােক, দুঃখেই হােক সবসময় ধর্মপথে থাকতে হবে। কেননা “ধর্মমূলং হি  ভগবান' অর্থাৎ ভগবান ধর্মের মূল। ধর্ম মেনে চললে ভগবান খুশি হন। জীবন সুখের হয়। দুঃখের সময়েও প্রানে শান্তি আসে। ধর্ম অনুশীলন দ্বারা মনুষ্যত্ব লাভ হয়। মনুষ্যত্ব ছাড়া মানুষের জীবন পূর্ণাঙ্গ হয় না! ধর্ম ছাড়া। কোন দেশ ও জাতি বড় হয় না। তাই মনুষ্যত্ব লাভের জনং সকলেরই ধর্ম মেনে চলা উচিত


https://officialraising.com/95/9b/3f/959b3f25632566fbfbe621981b819bd1.js'
দেবদেবী পরিচয়,Identity of gods and goddesses.

 

দেবদেবী 

তেত্রিশ কোটি দেব দেবী,Identity of gods and goddesses

ঈশ্বর এক এবং অদ্বিতীয়। তার কোন আকৃতি নেই। তিনি নিরাকার। তবে সে যে কোনো রূপ বা আকৃতি ধারণ করতে পারে। ঈশ্বরের ক্ষমতা সীমাহীন। তার গুণাবলী সীমাহীন। যখন ঈশ্বর মাল্লিক কোন গুণ বা ক্ষমতাকে আকার দান করেন, তখন তাঁকে দেবতা বলে। যেমন, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী প্রভৃতি দেব-দেবী। ঈশ্বর যে রূপে সৃষ্টি করেন তাঁর নাম ব্রহ্মা। ঈশ্বরে যেরূপে পালন করেন তাকে বিষ্ণু বলা হয়। সরস্বতী বিদ্যার দেবী। এরকম আরো অনেক দেব-দেবী আছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে দেবতারা দেবতা নন। ঈশ্বর অনেক নন. তিনি একজন। দেবতারা এক ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণ বা ক্ষমতার প্রকাশ। ঋগবেদের মন্ত্র বলা হয়েছে, একং সদ বিপ্রাঃ বহুধা বদন্তি।' অর্থাৎ এক, অবিচ্ছিন্ন ও চিরন্তন ব্রহ্মকে বিপ্রগণ বা ঋষিরা বিভিন্ন নামে বর্ণনা করেছেন। বিভিন্ন গুণ বা ক্ষমতা লাভের জন্য দেবতাদের পূজা করা হয়। পূজা করলে দেবতারা খুশি হন থাকা. মানুষ দেবতার কৃপা লাভ করে সুখ শান্তি পায়। দেবতাদের পূজা করলে ঈশ্বরও খুশি হন। কোন কোন দেব-দেবীর পূজা প্রতিদিনই করা হয়। যেমন, বিষ্ণু, শিব লক্ষ্মী প্রভৃতি। আবার বিশেষ বিশেষ তিথিতে কোন কোন দেব-দেবীর পূজা করা হয়। যেমন ব্রহ্মা, কার্তিক, সরস্বতী প্রভৃতি।আমাদের আদি ধর্মগ্রন্থ বেদের ওপর ভিত্তি করে 'পুরাণ’ নামক ধর্মগ্রন্থসমূহ রচিত হয়েছে। বেদ ও পুরাণে বিভিন্ন দেবদেবীর রূপ, শক্তি, প্রভাব, সামাজিক গুরুত্ব এবং পূজা-প্রণালী বর্ণনা করা হয়েছে। এছাড়া আরও কিছু দেবতা রয়েছেন, বেদ ও পুরাণে যাঁদের উল্লেখ নেই। কিন্তু ভক্তগণ যুগ-যুগ ধরে পূজা করে আসছেন। 
তিন প্রকার দেবতার

এভাবে আমরা তিন প্রকার দেবতার  পরিচয় পাই । যথা- 
ক) বৈদিক দেবতা 
খ) পৌরাণিক দেবতা 
গ) লৌকিক দেবতা । 

 ক) বৈদিক দেবতা 

বেদে যে সকল দেবতার কথা বলা হয়েছে, তাঁদেরকে বৈদিক দেবতা বলা হয়। যেমন, অগ্নি, ইন্দ্র, মিত্র, রুদ্র, উষা, প্রভৃতি। বৈদিক দেবতাদের কোন বিগ্রহ বা মূর্তি ছিল না। তবে বৈদিক মন্ত্রে প্রতিটি দেবতার রূপ, গুণ ও ক্ষমতার বর্ণনা করা হয়েছে। 


খ) পৌরাণিক দেবতা 
পুরাণে যে সকল দেবতার বর্ণনা করা হয়েছে, তাঁদের বলা হয়। । যেমন, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, দুর্গা, সরস্বতী প্রভৃতি। পুরাণে কিছু কিছু বৈদিক দেবতা সহ আরাে অনেক দেবতার বিগ্রহ বা মূর্তি ও মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। প্রচলিত হয়েছে দেবতাদের পূজা করার পদ্ধতি ও বিধিবিধান। যে সকল বৈদিক দেবতার উল্লেখ পুরাণেও আছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন বিষ্ণু, সূর্য, অগ্নি, ইন্দ্র, বরুণ প্রভৃতি।



 গ) লৌকিক দেবত
 বেদে ও পুরাণে যে-সকল দেবতার কথা বলা হয় নি, কিন্তু ভক্তগণ তাঁদের পূজা করেন, তাঁদের বলা হয় লৌকিক দেবতা। যেমন, মনসা, শীতলা, দক্ষিণ রায় প্রভৃতি। পরবর্তীকালে মনসা দেবীসহ আরও অনেক লৌকিক দেবতা পুরাণেও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।



Ads 728x90